পানির তীব্র সংকটে আল্ট্রাসনিক শব্দ তৈরি করে উদ্ভিদ; বন রক্ষা ও স্মার্ট কৃষিতে নতুন বিপ্লবের হাতছানি।
মানুষ বা প্রাণীর মতো কণ্ঠস্বর নেই, তবুও প্রবল পানির তৃষ্ণায় গাছেরা ‘চিৎকার’ করে ওঠে। সম্প্রতি ফ্রান্সের গ্রেনোবল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক গাছের এই বিশেষ ধরনের শব্দ রেকর্ড করতে সক্ষম হয়েছেন। বিজ্ঞানীদের দাবি, খরা বা পানিশূন্যতার সময় উদ্ভিদ এক প্রকার আল্ট্রাসনিক শব্দ সৃষ্টি করে, যা মানুষের কানে ধরা না পড়লেও তা গাছের বেঁচে থাকার আকুতিরই বহিঃপ্রকাশ।
কেন শব্দ করে গাছ?
উদ্ভিদবিদ্যার ভাষায়, গাছের কাণ্ডের ভেতর ‘জাইলেম’ নামক সরু নল থাকে যা মাটির নিচ থেকে পাতায় পানি পৌঁছে দেয়। খরার সময় যখন পানির সংকট দেখা দেয়, তখন এই নলের ভেতর প্রবল বায়ুচাপের সৃষ্টি হয়। এই চাপের ফলে পানির প্রবাহে বাতাসের বুদবুদ তৈরি হয়, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ক্যাভিটেশন’। মূলত এই বুদবুদগুলো তৈরির সময় এক ধরনের উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ সৃষ্টি হয়, যা অনেকটা সাহায্যের জন্য আর্তনাদের মতো।
গবেষণাগারে অভাবনীয় সাফল্য
পদার্থবিজ্ঞানী আলেক্সান্ডার পোনোমারেঙ্কো এবং তাঁর দল পাইন গাছের নমুনা ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে খরা পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। সেখানে অতি-সংবেদনশীল মাইক্রোফোন ব্যবহার করে তাঁরা সেই শব্দ ধারণ করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিটি বুদবুদ তৈরির সময় একটি নির্দিষ্ট ছন্দে শব্দতরঙ্গ বের হচ্ছে। যদিও এটি মানুষের শ্রবণক্ষমতার বাইরে, কিন্তু বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে তা সহজেই শনাক্তযোগ্য।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও স্মার্ট কৃষি
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার কৃষি ও বন রক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। যদি এমন কোনো বহনযোগ্য সেন্সর তৈরি করা যায় যা গাছের শব্দ বুঝতে পারে, তবে বোঝা যাবে কোন গাছটি ঠিক কতটা তৃষ্ণার্ত। এর ফলে পানির অপচয় রোধ করে ‘স্মার্ট সেচ’ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বনাঞ্চল কতটা ঝুঁকিতে আছে, তাও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আগেভাগে জানা যাবে।
তৃষ্ণার্ত গাছের এই নীরব ভাষা বুঝতে পারা বনের বাস্তুসংস্থান রক্ষা এবং কৃষকদের ফসল বাঁচাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তৃষ্ণার্ত হলে ‘আর্তনাদ’ করে গাছ! গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
পানির সংকটে থাকা গাছের ভেতরকার পরিবর্তনের ওপর গবেষণা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। (ছবি: সংগৃহীত)
মানুষ বা প্রাণীর মতো কণ্ঠস্বর নেই, তবুও প্রবল পানির তৃষ্ণায় গাছেরা ‘চিৎকার’ করে ওঠে। সম্প্রতি ফ্রান্সের গ্রেনোবল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক গাছের এই বিশেষ ধরনের শব্দ রেকর্ড করতে সক্ষম হয়েছেন। বিজ্ঞানীদের দাবি, খরা বা পানিশূন্যতার সময় উদ্ভিদ এক প্রকার আল্ট্রাসনিক শব্দ সৃষ্টি করে, যা মানুষের কানে ধরা না পড়লেও তা গাছের বেঁচে থাকার আকুতিরই বহিঃপ্রকাশ। কেন শব্দ করে গাছ? উদ্ভিদবিদ্যার ভাষায়, গাছের কাণ্ডের ভেতর ‘জাইলেম’ নামক সরু নল থাকে যা মাটির নিচ থেকে পাতায় পানি পৌঁছে দেয়। খরার সময় যখন পানির সংকট দেখা দেয়, তখন এই নলের ভেতর প্রবল বায়ুচাপের সৃষ্টি
হয়। এই চাপের ফলে পানির প্রবাহে বাতাসের বুদবুদ তৈরি হয়, বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ক্যাভিটেশন’। মূলত এই বুদবুদগুলো তৈরির সময় এক ধরনের উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ সৃষ্টি হয়, যা অনেকটা সাহায্যের জন্য আর্তনাদের মতো। গবেষণাগারে অভাবনীয় সাফল্য পদার্থবিজ্ঞানী আলেক্সান্ডার পোনোমারেঙ্কো এবং তাঁর দল পাইন গাছের নমুনা ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে খরা পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। সেখানে অতি-সংবেদনশীল মাইক্রোফোন ব্যবহার করে তাঁরা সেই শব্দ ধারণ করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিটি বুদবুদ তৈরির সময় একটি নির্দিষ্ট ছন্দে শব্দতরঙ্গ বের হচ্ছে। যদিও এটি মানুষের শ্রবণক্ষমতার বাইরে, কিন্তু বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে তা সহজেই শনাক্তযোগ্য। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
ও স্মার্ট কৃষি বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার কৃষি ও বন রক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। যদি এমন কোনো বহনযোগ্য সেন্সর তৈরি করা যায় যা গাছের শব্দ বুঝতে পারে, তবে বোঝা যাবে কোন গাছটি ঠিক কতটা তৃষ্ণার্ত। এর ফলে পানির অপচয় রোধ করে ‘স্মার্ট সেচ’ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বনাঞ্চল কতটা ঝুঁকিতে আছে, তাও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আগেভাগে জানা যাবে। তৃষ্ণার্ত গাছের এই নীরব ভাষা বুঝতে পারা বনের বাস্তুসংস্থান রক্ষা এবং কৃষকদের ফসল বাঁচাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিবেচনাধীন
[email protected] | +৮৮০৯৬৯৬৭১৮৮১৮৮
হোল্ডিং ১৮৫, পদ্মা আবাসিক এলাকা, রাজশাহী-৬০০০।
© ২০২৬ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | কালের দিশা