বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
ছবি
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
কালের দিশা - Kaler Disha | Latest Bangla News | সর্বশেষ সংবাদ
সর্বশেষ
ডিজিটাল নেশায় ডুবছে শৈশব

কিশোর মনে সামাজিক মাধ্যমের মরণ কামড়

বই আর খেলার মাঠ ছেড়ে স্মার্টফোনে বন্দি নতুন প্রজন্ম; বিষণ্নতা ও একাকিত্বের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রযুক্তির জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে আমাদের আগামী প্রজন্মের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার পরিবেশ। এক সময় যে কিশোর-কিশোরীদের বিকেলের মাঠে আড্ডা বা খেলার ছলে মুখর থাকার কথা ছিল, আজ তাদের সেই প্রাণচাঞ্চল্য থমকে গেছে স্মার্টফোনের নীল আলোয়।

বর্তমানে ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের ভার্চুয়াল জগতই তাদের কাছে ধ্যান-জ্ঞান হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্মার্টফোন এখন আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি কিশোর মনে এক অদৃশ্য শৃঙ্খল তৈরি করেছে। রাজধানীসহ সারা দেশের ঘরে ঘরে এখন একই চিত্র—পড়াশোনার টেবিল থেকে শুরু করে ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত সবখানেই মোবাইলের রাজত্ব। এই আসক্তি কেবল তাদের পাঠাভ্যাস নষ্ট করছে না, বরং তাদের মস্তিষ্কের গঠন ও মানসিক স্থিতিশীলতাকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের পেছনে ছোটার এই প্রবণতা কিশোরদের মধ্যে এক ধরনের হীনম্মন্যতা ও অস্থিরতা তৈরি করছে। অন্যের সাজানো-গোছানো ভার্চুয়াল জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবনের তুলনা করতে গিয়ে তারা গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে।

অনেক অভিভাবক অভিযোগ করছেন যে, সন্তানকে মোবাইল না দিলে তারা উগ্র আচরণ করছে, পরিবারের অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একলা ঘরে সময় কাটাতে পছন্দ করছে। দীর্ঘক্ষণ ছোট ভিডিও বা রিলস দেখার অভ্যাসে তাদের কোনো বিষয়ে গভীর মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতাও ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। এর বাইরেও সাইবার বুলিং ও অনৈতিক কন্টেন্টের ঝুঁকি তো রয়েছেই।

এই ভয়াবহ সংকট মোকাবিলায় সন্তানদের হাতে ফোন তুলে দেওয়ার আগে অভিভাবকদের সচেতনতা এবং তাদের গুণগত সময় দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে নয়, বরং একে নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে হবে সুন্দর ও সুস্থ শৈশব।

খুঁজুন