বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
ছবি
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
কালের দিশা - Kaler Disha | Latest Bangla News | সর্বশেষ সংবাদ
সর্বশেষ
চার ঝুঁকির কারণ চিহ্নিত জনস্বাস্থ্যবিদদের

হামে শিশুমৃত্যু বাড়ছেই

দেড় মাসে ২৭৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৪ হাজার—জরুরি গণ-টিকাদানের তাগিদ

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু এই সংকটকে নতুন করে সামনে এনেছে, যার মধ্যে ৫ জনই রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৭৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে ৩৪ হাজার ৬৬২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৮৫৬ জনের শরীরে। আক্রান্তদের মধ্যে ২৩ হাজার ৩৪৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৯ হাজার ৯৯১ শিশু।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ গ্রামাঞ্চলের অনেক ঘটনা এখনও আনুষ্ঠানিক হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ এই পরিস্থিতির অবনতির পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করছে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটায় অনেক শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গেছে। পাশাপাশি অপুষ্টির কারণে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় হাম সহজেই জটিল আকার নিচ্ছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো দেরিতে চিকিৎসা নেওয়া। অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণকে গুরুত্ব না দেওয়ায় রোগ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। একই সঙ্গে হঠাৎ বিপুল সংখ্যক রোগী বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতেও চাপ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ঢাকায়।

সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি টিকাদান জোরদার, বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন এবং হাসপাতালগুলোতে আলাদা ওয়ার্ড চালুর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরীর ভাষায়, এটি এখন ‘পাবলিক হেলথ অ্যালার্ম’। তিনি দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে গণ-টিকাদান কর্মসূচি চালু, প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে ঘরে ঘরে কার্যক্রম এবং হাসপাতালের শিশু চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

তিনি সতর্ক করেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে।

খুঁজুন