বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
ছবি
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
কালের দিশা - Kaler Disha | Latest Bangla News | সর্বশেষ সংবাদ
সর্বশেষ

ফ্যামিলি কার্ডে বরাদ্দ লাগবে ১৩ হাজার কোটি টাকা, অর্থ খোঁজে সরকার

আগামী অর্থবছরে ৪০ লাখ নারীপ্রধানকে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য; অর্থায়ন নিয়ে সমাজকল্যাণ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের তোড়জোড়

বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দেশব্যাপী বড় পরিসরে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ৪০ লাখ পরিবারের নারীপ্রধানকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে প্রয়োজন হবে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। বিপুল অংকের এই টাকা বরাদ্দ চেয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আধা সরকারি (ডিও) পত্র দিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

বিএনপি সরকারের এই ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ কোন খাত থেকে আসবে, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বর্তমান কোনো খাত থেকে এই টাকা সমন্বয় করা হবে, নাকি বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতে এই কার্ড এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার নারী এই সুবিধা পাচ্ছেন। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের পরিবারকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এই কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বাজেট ব্যবস্থাপনা।

সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, টিআর বা কাবিখার মতো কর্মসূচিগুলোকে একীভূত করে সেই বরাদ্দ ফ্যামিলি কার্ডে স্থানান্তর করা যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো।

অর্থনীতিবিদরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বললেও আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সঠিক ডাটাবেজ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের অন্যান্য কর্মসূচির সাথে যেন দ্বৈততা তৈরি না হয় এবং প্রকৃত দুস্থরা যেন এই সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

খুঁজুন