দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ও আকারে এক ভয়াবহ পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। দীর্ঘ এক দশক ধরে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার পর গত দুই বছরে হঠাৎ আহরণে ধস নেমেছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিগত দুই বছরে ইলিশ আহরণ কমেছে প্রায় ৭১ হাজার টন। কেবল উৎপাদনই কমেনি, ধরা পড়া মাছের গড় ওজন ও দৈর্ঘ্যও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সাত বছর আগেও যেখানে ইলিশের গড় ওজন ছিল ৫০০ গ্রামের ওপরে, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রামে।
মৎস্যবিজ্ঞানীদের মতে, ইলিশ ছোট হওয়ার পেছনে কোনো অলৌকিক কারণ নয়, বরং মানুষের অনিয়ন্ত্রিত হস্তক্ষেপ ও পরিবেশের বিপর্যয়ই প্রধান দায়ী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় জাটকা নিধনের মাত্রা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। মার্চ-এপ্রিলের নিষিদ্ধ সময়েও সূক্ষ্ম জালের মাধ্যমে নির্বিচারে জাটকা ধরা হচ্ছে, যার ফলে মাছগুলো পূর্ণবয়স্ক হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এছাড়া উপকূলীয় সাগরে ৪০ মিটারের কম গভীরতায় আর্টিসানাল ট্রলার ও নিষিদ্ধ বেহুন্দি জালের ব্যবহার ইলিশের বংশবিস্তার ও বেড়ে ওঠাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মেঘনা নদীতে ইলিশের প্রধান খাবার ‘প্ল্যাংকটন’ এর পরিমাণ প্রায় ৬৮ শতাংশ কমেছে, যার মূলে রয়েছে ভয়াবহ নদীদূষণ। নদীর নাব্যতা সংকট ও মোহনায় জেগে ওঠা ডুবোচরের কারণে গভীর সমুদ্র থেকে বড় ইলিশের দল আর নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না।
ফলে অপরিপক্ব বয়সেই ডিম ছেড়ে দিচ্ছে ছোট ইলিশগুলো, যা মৎস্য সম্পদের দীর্ঘমেয়াদী অস্তিত্বের জন্য অশনিসংকেত। এই সংকট কাটাতে নতুন অভয়াশ্রম তৈরি, মোহনা থেকে পলি অপসারণ এবং জেলেদের কার্যকর বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।