বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
ছবি
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
কালের দিশা - Kaler Disha | Latest Bangla News | সর্বশেষ সংবাদ
সর্বশেষ

সম্পদ ও দান বণ্টনে মহানবী (সা.)-এর অনন্য কৌশল ও প্রজ্ঞা

হাদিসের আলোকে জানুন- রাসুলুল্লাহ (সা.) কেন সম্পদ বণ্টনে বিশেষ নীতিমালা অনুসরণ করতেন।

ইসলামী সমাজব্যবস্থায় সম্পদ বণ্টন কেবল একটি অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও আদর্শিক কৌশল। আমর ইবনু তাগলিব (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে মহানবী (সা.)-এর সেই প্রজ্ঞার অনন্য উদাহরণ পাওয়া যায়। একবার যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) কিছু সাহাবিকে দান করেন এবং কিছু সাহাবিকে কিছুই দেননি। এতে যাদের কিছু দেওয়া হয়নি, তাদের মধ্যে কিছুটা অসন্তুষ্টির আভাস দেখা দিলে মহানবী (সা.) এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।

আল্লাহর প্রশংসা শেষে নবীজি (সা.) বলেন, "আল্লাহর কসম! আমি কাউকে কিছু দিই, আবার কাউকে দিই না। কিন্তু যাদের আমি দিই না, তারাই আমার কাছে বেশি প্রিয়। আমি কিছু মানুষকে তাদের অন্তরের অস্থিরতা ও দুর্বল ঈমান দেখে দান করি যাতে তারা সন্তুষ্ট থাকে। পক্ষান্তরে, যাদের অন্তরে আল্লাহ ধনাঢ্যতা ও কল্যাণ দান করেছেন, তাদের আমি সেই আত্মতুষ্টির ওপরই ছেড়ে দিই।"

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখে এমন প্রশংসা শুনে আমর ইবনু তাগলিব (রা.) আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন যে, নবীজির এই স্বীকৃতির বদলে তিনি দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ 'লাল উট' পাওয়াও তুচ্ছ মনে করেন (সহিহ বুখারি)।

এই হাদিস থেকে আমরা শিখতে পারি যে, নেতৃত্ব বা সামাজিক আচরণে মানুষের মানসিক অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। নতুন মুসলিম বা দুর্বল ঈমানের অধিকারীদের সহযোগিতার মাধ্যমে উৎসাহিত করা যেমন নবিজি (সা.)-এর কৌশল ছিল, তেমনি প্রকৃত সম্পদ যে অন্তরের ধনাঢ্যতা—সেই শিক্ষাও তিনি আমাদের দিয়ে গেছেন।

খুঁজুন