মানবজীবন রোগ-ব্যাধি এবং দুঃখ-কষ্টের এক আবর্ত। কখনো শারীরিক অসুস্থতা আমাদের কাবু করে, আবার কখনো মানসিক অশান্তি জীবনকে বিষিয়ে তোলে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান দেহের বাহ্যিক চিকিৎসার সমাধান দিলেও আত্মা ও হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য মানুষ মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তাআলা মহাগ্রন্থ আল-কোরআনকে কেবল হেদায়াতের আলো হিসেবেই পাঠাননি, বরং একে মুমিনদের জন্য ‘শিফা’ বা মহৌষধ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমদের মতে, পবিত্র কোরআনের বিশেষ ছয়টি আয়াত রয়েছে যা নিয়মিত তিলাওয়াত ও আমল করলে আল্লাহর রহমতে কঠিন রোগ থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আয়াতগুলো হলো:
১. সুরা তাওবা (আয়াত ১৪): যেখানে আল্লাহ মুমিনদের অন্তরের প্রশান্তির কথা বলেছেন।
২. সুরা ইউনুস (আয়াত ৫৭): এই আয়াতে কোরআনকে অন্তরের রোগের নিরাময় ও রহমত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. সুরা হা-মীম সাজদাহ (আয়াত ৪৪): এখানে বলা হয়েছে, কোরআন বিশ্বাসীদের জন্য পথপ্রদর্শক ও রোগের প্রতিকার।
৪. সুরা নাহল (আয়াত ৬৯): মধুর গুণাগুণ বর্ণনার পাশাপাশি এতে মানুষের জন্য রোগের শিফা থাকার কথা জানানো হয়েছে।
৫. সুরা বনি ইসরাঈল (আয়াত ৮২): আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি কোরআনে এমন কিছু নাজিল করেন যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও বিশেষ রহমত।
৬. সুরা শুআরা (আয়াত ৮০): যেখানে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সেই অমোঘ বিশ্বাস ফুটে উঠেছে— ‘যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই (আল্লাহ) আমাকে আরোগ্য দান করেন।’
এই আয়াতগুলো বিশ্বাসের সঙ্গে তিলাওয়াত করলে মনের জোর বাড়ে এবং আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে অসুস্থতা লাঘব হয়।