আবদুল্লাহ উন্দুলুসি (রহ.)-এর জীবনের সেই ঐতিহাসিক শিক্ষা এবং আধ্যাত্মিক ব্যাধি থেকে মুক্তির পথ।
ইমান ও আমলের পূর্ণতার পথে প্রধান অন্তরায় হলো অন্তরের অহংকার। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো পাপীকে দেখলে আমরা ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেই, যা নিজের অজান্তেই মনে অহংকারের জন্ম দেয়। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, পাপীকে ঘৃণা নয়, বরং তার পাপকে ঘৃণা করতে হবে। যদি কারো মনে এই অনুশোচনা জাগে যে—‘আমার অবহেলার কারণেই হয়তো সে দ্বীনের দাওয়াত পায়নি’, তবে বুঝতে হবে তার ইমান সজীব। আর যদি নিজেকে উত্তম ভেবে অন্যকে তুচ্ছ মনে হয়, তবে সেটিই হলো আত্মিক ব্যাধি।
বিশ্ববিখ্যাত বুজুর্গ হজরত আবদুল্লাহ উন্দুলুসি (রহ.)-এর জীবনের একটি ঘটনা এ ক্ষেত্রে এক বিরাট শিক্ষা। তিনি একবার মুরিদদের নিয়ে সফরকালে একদল খ্রিস্টানকে দেখে মনে ঘৃণার উদ্রেক করেছিলেন। নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভেবে তাদের প্রতি দয়া বা দাওয়াতের মানসিকতা না রাখায় আল্লাহ তাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন। এক খ্রিস্টান নারীর প্রতি আসক্ত হয়ে তিনি নিজের সব ইলম ও বুজুর্গি হারিয়ে ফেলেন এবং দীর্ঘ তিন বছর শূকর চরাবার মতো লাঞ্ছনাকর অবস্থায় নিমজ্জিত হন। পরবর্তীতে ভক্তদের কান্নাকাটি ও নিজের ঐকান্তিক তওবার ফলে আল্লাহ তাকে পুনরায় হেদায়েতের আলো দান করেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, অতি ক্ষুদ্র অহংকারও ধ্বংসের কারণ হতে পারে।
আধ্যাত্মিক চিকিৎসকদের মতে, হিংসা ও ঘৃণা এমন দুটি ব্যাধি যা মানুষকে কখনো শান্তিতে থাকতে দেয় না। হজরত হারদুই (রহ.) বলতেন, মানুষের বেলায়েত বা আল্লাহর সান্নিধ্য কখন উঠে যায় তা বলা যায় না। তাই সর্বদা সালেহ বা যোগ্য মুরুব্বির তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি। আল্লাহওয়ালাদের সোহবত বা সান্নিধ্য হলো আল্লাহর রশির মতো, যা বান্দাকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে।
বড় বড় আলেম ও মুহাদ্দিসগণও আত্মশুদ্ধির জন্য বুজুর্গদের সান্নিধ্য অবলম্বন করতেন। কাসেম নানুতুবি (রহ.) বা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর মতো ব্যক্তিত্বরাও কঠিন মাসালায় আটকে গেলে তাদের মুরুব্বিদের শরণাপন্ন হতেন। আসলে ইমানের সৌন্দর্য ও অন্তরের আয়না পরিষ্কার করার জন্য উপযুক্ত সোহবতের কোনো বিকল্প নেই। যারা নিছক স্বার্থসিদ্ধির জন্য পীর-মুরিদি করেন, তাদের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। প্রকৃত পীর-মুরিদি হওয়া উচিত কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আত্মিক পরিশুদ্ধির মাধ্যম।
অহংকার ও ঘৃণা থেকে অন্তরকে পবিত্র রাখার উপায়
আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি ও ইমানি জজবা বাড়াতে আলেম ও বুজুর্গদের সোহবত অপরিহার্য। (ছবি: সংগৃহীত)
ইমান ও আমলের পূর্ণতার পথে প্রধান অন্তরায় হলো অন্তরের অহংকার। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো পাপীকে দেখলে আমরা ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেই, যা নিজের অজান্তেই মনে অহংকারের জন্ম দেয়। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, পাপীকে ঘৃণা নয়, বরং তার পাপকে ঘৃণা করতে হবে। যদি কারো মনে এই অনুশোচনা জাগে যে—‘আমার অবহেলার কারণেই হয়তো সে দ্বীনের দাওয়াত পায়নি’, তবে বুঝতে হবে তার ইমান সজীব। আর যদি নিজেকে উত্তম ভেবে অন্যকে তুচ্ছ মনে হয়, তবে সেটিই হলো আত্মিক ব্যাধি। বিশ্ববিখ্যাত বুজুর্গ হজরত আবদুল্লাহ উন্দুলুসি (রহ.)-এর জীবনের একটি ঘটনা এ ক্ষেত্রে এক বিরাট শিক্ষা। তিনি একবার মুরিদদের নিয়ে সফরকালে একদল খ্রিস্টানকে দেখে মনে
ঘৃণার উদ্রেক করেছিলেন। নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভেবে তাদের প্রতি দয়া বা দাওয়াতের মানসিকতা না রাখায় আল্লাহ তাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন। এক খ্রিস্টান নারীর প্রতি আসক্ত হয়ে তিনি নিজের সব ইলম ও বুজুর্গি হারিয়ে ফেলেন এবং দীর্ঘ তিন বছর শূকর চরাবার মতো লাঞ্ছনাকর অবস্থায় নিমজ্জিত হন। পরবর্তীতে ভক্তদের কান্নাকাটি ও নিজের ঐকান্তিক তওবার ফলে আল্লাহ তাকে পুনরায় হেদায়েতের আলো দান করেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, অতি ক্ষুদ্র অহংকারও ধ্বংসের কারণ হতে পারে। আধ্যাত্মিক চিকিৎসকদের মতে, হিংসা ও ঘৃণা এমন দুটি ব্যাধি যা মানুষকে কখনো শান্তিতে থাকতে দেয় না। হজরত হারদুই (রহ.) বলতেন, মানুষের বেলায়েত বা আল্লাহর সান্নিধ্য কখন উঠে
যায় তা বলা যায় না। তাই সর্বদা সালেহ বা যোগ্য মুরুব্বির তত্ত্বাবধানে থাকা জরুরি। আল্লাহওয়ালাদের সোহবত বা সান্নিধ্য হলো আল্লাহর রশির মতো, যা বান্দাকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে। বড় বড় আলেম ও মুহাদ্দিসগণও আত্মশুদ্ধির জন্য বুজুর্গদের সান্নিধ্য অবলম্বন করতেন। কাসেম নানুতুবি (রহ.) বা আশরাফ আলী থানভী (রহ.)-এর মতো ব্যক্তিত্বরাও কঠিন মাসালায় আটকে গেলে তাদের মুরুব্বিদের শরণাপন্ন হতেন। আসলে ইমানের সৌন্দর্য ও অন্তরের আয়না পরিষ্কার করার জন্য উপযুক্ত সোহবতের কোনো বিকল্প নেই। যারা নিছক স্বার্থসিদ্ধির জন্য পীর-মুরিদি করেন, তাদের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। প্রকৃত পীর-মুরিদি হওয়া উচিত কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আত্মিক পরিশুদ্ধির মাধ্যম।
বিবেচনাধীন
[email protected] | +৮৮০৯৬৯৬৭১৮৮১৮৮
হোল্ডিং ১৮৫, পদ্মা আবাসিক এলাকা, রাজশাহী-৬০০০।
© ২০২৬ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | কালের দিশা