নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত সেই মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে র্যাবের একটি চৌকস দল তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। গ্রেপ্তারকৃত আমান উল্লাহ উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাছহাট গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মহিলা মাদরাসার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। শিশুটির মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। গত বছরের ২ নভেম্বর বিকেলে মাদরাসা ছুটির পর পরিচ্ছন্নতার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নেন আমান উল্লাহ। পরে নির্জন মাদরাসায় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়। সম্প্রতি শিশুটির মা বাড়িতে ফিরে তার শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন এবং পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক ছিলেন, এমনকি আত্মগোপনে থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করার চেষ্টাও করেছিলেন।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।