বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
ছবি
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
কালের দিশা - Kaler Disha | Latest Bangla News | সর্বশেষ সংবাদ
সর্বশেষ

গণভোটের রায় না মানলে বিরামহীন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের

সংসদ ও রাজপথ একাকার হলে কোনো বাঁধেই জোয়ার থামবে না; সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হুংকার দিলেন ডা. শফিকুর রহমান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনগণের কাঙ্ক্ষিত গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের আন্দোলনে কোনো বিশ্রাম থাকবে না। তিনি বলেন, এই লড়াই একইসাথে সংসদ এবং রাজপথে চলবে। আর যেদিন রাজপথ ও সংসদ একাকার হয়ে যাবে, সেদিন কোনো বালুর বাঁধ দিয়ে জনতার উত্তাল জোয়ার থামানো সম্ভব হবে না।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খেলাফত মজলিস আয়োজিত এক বিশাল গণ-সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কড়া মন্তব্য করেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যের শুরুতেই একাত্তরের স্মৃতিচারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করার কারণেই দেশ একটি অনিবার্য যুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়েছিল। যারা সেদিন জনমতকে অস্বীকার করেছিল, তাদের শেষ রক্ষা হয়নি।” তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে বলেন, যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের অংশ মনে করেন, তারা যেন সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্মান জানিয়ে গণরায় মেনে নেন। রায় মেনে নিলে দাবি আদায়ের জন্য আর রাজপথে বক্তব্যের প্রয়োজন হবে না।

সরকারের দ্বিমুখী অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে জামায়াত আমির আরও বলেন, আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদকে এই মঞ্চ কখনো বরদাশত করবে না। একসময় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সরকারই গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং নির্বাচনী প্রচারণায় তাদের শীর্ষ নেতা জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তারা সেই গণভোটকেই ‘অবৈধ’ বলে অভিহিত করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই অবস্থান কি নির্বাচনের পর বদলে গেল, নাকি এটি তাদের সুবিধাবাদী রাজনীতিরই অংশ?

শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের আগে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার অঙ্গীকার করলেও এখন তারা দেশের ‘জমিদার’ সেজে বসেছেন। বিরোধী মতের লোকজনকে বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দিয়ে দেশ দখলের রাজনীতি চলছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আলেম-ওলামাদের রক্তে অর্জিত এই দেশে কারো একচ্ছত্র আধিপত্য চলবে না। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ এবং ‘দেশটা কারো বাপের নয়’—এই স্লোগানগুলোই আমাদের আগামী দিনের প্রেরণা।”

সমাবেশে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা সংহতি প্রকাশ করে দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান।

খুঁজুন