প্রকৃতি ও অর্থনীতির দ্বিমুখী আঘাত কাটিয়ে উঠতে পর্যটন খাতকে কেন্দ্র করে বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ২০২৬ সালের মধ্যে রেকর্ড ৩০ লাখ পর্যটক আমন্ত্রণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটির সরকার, যা ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী ভঙ্গুর অবকাঠামো ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে তুরুপের তাস হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। গেল বছর প্রায় ২৩ লাখ ৬০ হাজার পর্যটকের আগমনে উজ্জীবিত প্রশাসন এবার সেই সংখ্যাকে আরও ২৭ শতাংশ বাড়িয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।
সম্প্রতি দেশটির পররাষ্ট্র ও পর্যটনমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ এক বিবৃতিতে জানান, নভেম্বরের শেষভাগে বয়ে যাওয়া প্রলয়ঙ্কারী সাইক্লোনের ধকল সামলাতে পর্যটনই এখন তাদের প্রধান আশা। ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাড়ে ছয়শর বেশি মানুষের প্রাণহানি ছাড়াও ঘরবাড়ি এবং সড়ক-সেতুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসেব মতে, এই দুর্যোগে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এই বিশাল ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম উৎস পর্যটন খাত থেকে বড় অংকের রাজস্ব আয়ের প্রত্যাশা করছে দেশটি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দুর্যোগের কারণে শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়ে দিলেও পর্যটন খাতের সাফল্যে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। গত বছরও প্রতিকূলতার মাঝে এই খাত থেকে প্রায় ৩২০ কোটি ডলার আয় করেছে কলম্বো। বর্তমান সংকটকালীন সময়ে এই আয়কে আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগের দিকেও নজর দিচ্ছে সরকার। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তথ্যমতে, ২০২৬ সালে এই খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি ডলার।
সিলন চা, প্রাচীন স্থাপত্য এবং সমুদ্র সৈকতের মোহনীয় আকর্ষণে পর্যটকদের কাছে শ্রীলঙ্কা বরাবরই জনপ্রিয়। তবে এবার কেবল সৌন্দর্য প্রদর্শন নয়, বরং বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতেই পর্যটনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে দেশটি। প্রতিকূলতা ছাপিয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যটক সমাগম ঘটানোর এই দৃঢ় প্রত্যয় শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড কতটুকু শক্ত করতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।