টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে নতুন করে বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে প্লাবিত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। ইতোমধ্যে নেত্রকোণা ও মৌলভীবাজারের বেশ কিছু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে নেত্রকোণার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভুগাই কংস, সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর পানি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে।
এছাড়া মনু নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওর অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, কিশোরগঞ্জের নিকলী, ভোলা ও ফেনীতে গত একদিনে দেড়শ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানিয়েছেন, এসব নদ-নদী আকারে ছোট হওয়ায় ভারি বৃষ্টিতে খুব দ্রুত পানি বেড়ে যায়। ফলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত উপকূলীয় জেলাগুলোসহ বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।