নীল জলরাশি আর প্রবাল দ্বীপের টানে পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে থাকা সেন্টমার্টিনে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত পর্যটন মৌসুম। তবে এবারের ভ্রমণ গতানুগতিক নয়; দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার আরোপ করেছে কঠোর বিধিনিষেধ। চলতি বছরের ডিসেম্বর এবং আগামী বছরের জানুয়ারি—মাত্র এই দুই মাস পর্যটকরা দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ পাচ্ছেন। ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ মৌসুম চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
নতুন নিয়মানুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক দ্বীপে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। এবার টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ চলাচল করছে না; পর্যটকদের কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সংলগ্ন নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে জাহাজে উঠতে হবে। সেন্টমার্টিন ভ্রমণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো 'কিউআর কোড' সংবলিত সরকারি ট্রাভেল পাস। এই পাস ছাড়া কোনো পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন না এবং পাসবিহীন টিকিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।
পর্যটকদের মনে প্রশ্ন রয়েছে, এই পাস কোথায় মিলবে? এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটকদের আলাদা করে ট্রাভেল পাসের জন্য কোনো আবেদন করতে হবে না। অনুমোদিত জাহাজ বা ট্রাভেল এজেন্টের কাছ থেকে টিকিট কিনলেই টিকিটের সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাভেল পাস জেনারেট হয়ে যাবে। তবে ভ্রমণের সময় অবশ্যই সেই কিউআর কোড যুক্ত টিকিটের প্রিন্ট কপি সঙ্গে রাখতে হবে। চলতি মৌসুমে এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া, এমভি বে ক্রুজসহ মোট ছয়টি জাহাজকে পর্যটক পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জাহাজগুলো প্রতিদিন সকাল ৭টায় কক্সবাজার থেকে রওনা দিয়ে পরদিন বিকেল ৩টায় দ্বীপ থেকে ফিরে আসবে।
ভ্রমণের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি দ্বীপের প্রাণপ্রকৃতি রক্ষায় পর্যটকদের ১২ দফা কঠোর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দে গান বাজানো কিংবা বারবিকিউ পার্টি করা এখন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া কেয়া বনে প্রবেশ, সামুদ্রিক কচ্ছপ, প্রবাল বা ঝিনুক সংগ্রহ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। দ্বীপকে প্লাস্টিকমুক্ত রাখতে পলিথিন, ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্য ও ছোট প্লাস্টিকের বোতল বহন করা যাবে না। পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।