বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশনা জগতে ‘অন্যপ্রকাশ’ একটি সুপরিচিত নাম। দীর্ঘ তিন দশক ধরে মানসম্পন্ন বই এবং পাঠকসংস্কৃতি গড়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন এর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের প্রকাশনা শিল্পের বিবর্তন, বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত হওয়া মাজহারুল ইসলাম সাংবাদিকতায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েও বেছে নিয়েছেন বইয়ের জগতকে।
তিনি জানান, মুদ্রণ মান ও পেশাদারিত্বের অভাবের চ্যালেঞ্জ নিয়েই তিনি ‘সৃজনশীল প্রকাশনায় উৎকর্ষের সন্ধানে’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পথ চলা শুরু করেছিলেন।
সাক্ষাৎকারে উঠে আসে বর্তমান বাজারের পরিস্থিতি। প্রযুক্তির প্রসারে অনলাইনে বই বিক্রি বাড়লেও মুদ্রণ উপকরণের আকাশচুম্বী দাম এবং সামাজিক-পারিবারিক পর্যায়ে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়াকে তিনি বড় সংকট হিসেবে দেখছেন। ডিজিটাল মিডিয়ার ভিড়েও কাগজের বইয়ের আবেদন ফুরাবে না বলে বিশ্বাস করেন তিনি। নতুন লেখকদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ হলো—বেশি বেশি ক্ল্যাসিক সাহিত্য পড়া এবং ভাষার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা। তিনি মনে করেন, কেবল সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা বা ভাইরাল হওয়া দিয়ে লেখক হওয়া যায় না, বরং নিয়মিত চর্চা ও গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে একজন পরিণত লেখক গড়ে ওঠেন।
অমর একুশে বইমেলা নিয়ে মাজহারুল ইসলাম বলেন, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার হলেও এবারের মেলার সময়কাল ও পরিস্থিতি অনুকূল ছিল না। পাইরেসি বা অবৈধ বই ছাপানোকে তিনি প্রকাশনা শিল্পের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং এ জন্য কঠোর আইনি প্রয়োগের দাবি জানান। এছাড়া নবীন লেখকদের ধৈর্য ধারণ এবং বড় প্রকাশকদের পাণ্ডুলিপির মান যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তিনি কথা বলেন। অন্যপ্রকাশের এই কর্ণধারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কাজগুলোকে মানসম্পন্ন অনুবাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা।