বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
ছবি
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ | ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
কালের দিশা - Kaler Disha | Latest Bangla News | সর্বশেষ সংবাদ
সর্বশেষ

সন্তানের মুখে হাসি, নাকি বিষ? ফলের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের থাবা

কেমিক্যাল সিন্ডিকেটের কবলে ফলের বাজার: নিরাপদ খাদ্যের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার সংকট

রাজধানীর এক ছোট্ট ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। আজ সকালে ঘুম ভাংতেই সাত বছরের রাফি আধোঘুম চোখে দৌড়ে গিয়ে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল, “আব্বু, বাজারে নাকি আম উঠছে… তুমি আজ আমার জন্য আম আনবা?”

শিশুর এই ছোট্ট আবদারের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল এক টুকরো বাংলাদেশ। আমাদের শৈশব, আমাদের গ্রীষ্ম, গ্রামের উঠান, কাঁচা আমের গন্ধ আর পরিবারের সঙ্গে বসে ফল খাওয়ার সহজ-সরল আনন্দ। রাফির চোখে তখন আম মানেই ঈদের মতো খুশি।

সে হয়তো কল্পনা করছিল—স্কুল থেকে ফিরে প্লেটে কেটে রাখা হলুদ টসটসে আম, আর পাশে বসে মা বলছেন, “ধীরে খা বাবা, গলায় লাগবে।”

সারাদিন অফিসের ব্যস্ততা আর জীবনের হিসাব-নিকাশে ক্লান্ত বাবা সন্ধ্যায় ফেরার পথে রাস্তার পাশের ফলের দোকানে দাঁড়িয়ে গেলেন। দোকানভর্তি টকটকে হলুদ আম। দূর থেকে দেখলেই জিভে পানি আসে।

মুহূর্তেই ছেলের হাসিমাখা মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠল। পকেটে টান ছিল, সংসারের হাজারো চাপ ছিল, তারপরও সন্তানের মুখে একটু হাসি দেখার জন্য দরদাম না করেই কয়েক কেজি আম কিনে নিলেন তিনি। হাতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাসার সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে তার মনে হচ্ছিল—আজ হয়তো রাফিটা খুব খুশি হবে।

কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টিকল না।

রাতে পরিবারের সবাই মিলে আম কাটতে গিয়ে দেখা গেল বাইরে থেকে ঝকঝকে পাকা দেখালেও ভেতরে কাঁচা, শক্ত আর স্বাদহীন। তবুও মৌসুমের প্রথম আম বলে কেউ কিছু ভাবল না। রাত গভীর হতে না হতেই হঠাৎ রাফির কান্নায় ঘুম ভেঙে গেল সবার। পেট চেপে ধরে কাঁদছে সে। কিছুক্ষণ পর শুরু হলো বমি।
আতঙ্কিত বাবা-মা ছেলেকে কোলে নিয়ে ছুটলেন হাসপাতালের দিকে। হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে বাবা তখন শুধু একটাই কথা ভাবছিলেন—সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে তিনি কি নিজের হাতেই বিষ তুলে দিয়েছেন?

আজ বাংলাদেশের অসংখ্য পরিবারের গল্প যেন এটাই। যে ফল একসময় ছিল প্রকৃতির আশীর্বাদ, তা এখন হয়ে উঠছে আতঙ্কের নাম। বাজারে আগাম আম, লিচু কিংবা অন্যান্য ফলের বাহারি রঙ দেখে মানুষ আকৃষ্ট হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে ভয়ংকর এক বাস্তবতা। অতি মুনাফার লোভে অসাধু সিন্ডিকেট অপরিপক্ব ফল কার্বাইড, ইথোফেন ও বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে পাকিয়ে বাজারে ছাড়ছে। বাইরে চকচকে সৌন্দর্য, ভেতরে বিষাক্ত প্রতারণা।

বাংলাদেশের বাজারব্যবস্থায় এখন মৌসুমের আগেই ফল তোলার এক অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। কৃষক নয়, এই প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ করছে মধ্যস্বত্বভোগী ও কেমিক্যাল সিন্ডিকেট। অতি মুনাফার আশায় অপরিপক্ব আম-লিচুতে কার্বাইড, ইথোফেন ও বিভিন্ন হরমোন ব্যবহার করে রাতারাতি ফল পাকিয়ে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। বাইরে থেকে দেখে মনে হয় একেবারে গাছপাকা ফল। কিন্তু ঘরে নেওয়ার পর দেখা যায় ভেতরে কাঁচা, শক্ত ও স্বাদহীন। মানুষ প্রতারিত হচ্ছে, অথচ বিক্রেতারা লাভের পাহাড় গড়ছে।

আরও ভয়ংকর বিষয় হলো—এই প্রতারণা কেবল অর্থনৈতিক নয়; এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে সংঘটিত এক নীরব অপরাধ।

গত ২৯ এপ্রিল সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে প্রায় ৯ হাজার কেজি কেমিক্যাল ও কার্বাইড দিয়ে পাকানো অপরিপক্ব আম জব্দ হওয়ার ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে—দেশজুড়ে কী ভয়ংকরভাবে বিস্তার লাভ করেছে এই সিন্ডিকেট। সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের অভিযানে ৩৫১ ক্যারেট আম জব্দ করা হয়। এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়; বরং প্রতি মৌসুমেই এমন অসংখ্য চালান দেশের বিভিন্ন স্থানে ধরা পড়ে। প্রশ্ন হলো, যেগুলো ধরা পড়ে না, সেগুলো কোথায় যায়? সেগুলো পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের খাবারের টেবিলে।

রাজধানীর খুচরা বাজার ও অলিগলির দোকানগুলোতে এখন আগাম আম ও লিচুর ছড়াছড়ি। গোবিন্দভোগ, গোলাপখাস, কাটিমন কিংবা বৃন্দাবনী নাম দিয়ে যে আম বিক্রি হচ্ছে, তার অনেকগুলোই প্রকৃতপক্ষে অপরিপক্ব। পাইকারি বাজারে যে আমের দাম কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১০০ টাকা, সেটিই খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি দামে। অর্থাৎ কৃত্রিম সংকট ও আগাম বাজার তৈরির মাধ্যমে ভোক্তাদের পকেট কাটার পাশাপাশি তাদের শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিষ।

রাফির পরিবারের অভিজ্ঞতা আসলে লাখো পরিবারের অভিজ্ঞতা। সন্তানের জন্য ভালোবেসে কেনা প্রথম আম যখন রাতভর পেটব্যথা ও অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেটি শুধু একটি পরিবারের দুর্ভোগ নয়—এটি রাষ্ট্রের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতীক।

বিষযুক্ত ফলমূলের কারণে একদিকে মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে অন্যদিকে ফলমূলের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা ভয়াবহভাবে কমে যাচ্ছে। তবুও কিছু মানুষ পকেটের টাকা খরচ করে বিযুক্ত ফলমূল কিনছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ভেজাল সংস্কৃতি এখন সমাজে এক ধরনের স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মানুষ যেন মেনে নিয়েছে—বাজারে বিষ থাকবে, খাবারে ভেজাল থাকবে, আর অসুস্থ হওয়াটাই হবে নিয়তি। এটি একটি জাতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক মানসিকতা। কারণ যখন মানুষ প্রতারণাকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেয়, তখন অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরো স্পষ্ট করে। ক্যালসিয়াম কার্বাইড মূলত শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক পদার্থ। এটি আর্দ্রতার সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করে, যা ফলকে দ্রুত পাকায়। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় ফলের পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মানবদেহে তৈরি হয় ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। পেটব্যথা, ডায়রিয়া, বমি, মাথা ঘোরা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, খিঁচুনি থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। আর্সেনিক ও ফসফরাসজাতীয় বিষাক্ত উপাদান লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা ধ্বংস করে দিতে পারে।

অপরিপক্ব লিচুর বিষয়টি আরও ভয়ংকর। এতে থাকা মিথাইলিন সাইক্লোপ্রোপাইলগ্লাইসিন শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। খালি পেটে এই লিচু খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে এনসেফালোপ্যাথির মতো প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে। প্রতিবছর দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে শিশু মৃত্যুর সঙ্গে এই বিষক্রিয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অথচ আমাদের দেশে এসব বিষয়ে জনসচেতনতা এখনও অত্যন্ত সীমিত।

বাংলাদেশে খাদ্যে ভেজালের ইতিহাস নতুন নয়। মাছে ফরমালিন, দুধে ডিটারজেন্ট, মসলা গুঁড়ায় ইটের গুঁড়া, ঘিতে পশুর চর্বি, মধুতে চিনি সিরাপ—ভেজাল যেন পুরো খাদ্যব্যবস্থাকে গ্রাস করেছে। কিন্তু ফলের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল। কারণ ফলকে সাধারণত স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে দেখা হয়। মানুষ রোগ প্রতিরোধ, শিশুদের পুষ্টি এবং সুস্থ জীবনের জন্য ফল খায়। সেই ফলই যখন বিষের বাহক হয়ে ওঠে, তখন পুরো জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে।

প্রশ্ন হচ্ছে এখানে রাষ্ট্রের কার্যকারিতা কোথায়? কেন বছরের পর বছর একই ঘটনা ঘটছে, অথচ স্থায়ী সমাধান আসছে না? ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, তারা বাজার তদারকি করছে। অন্য সংস্থাগুলো বলছে, কেমিক্যাল পরীক্ষা তাদের কাজ নয়। অর্থাৎ দায়িত্ব এক সংস্থা থেকে আরেক সংস্থার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জনগণের জীবনের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। কারণ খাদ্যনিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।

বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, বিএসটিআই, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন—সবাই কোনো না কোনোভাবে এই খাতের সঙ্গে জড়িত। 

কিন্তু সমন্বয়ের অভাব, দুর্নীতি, সীমিত জনবল এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। মৌসুমের শুরুতে কিছু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েকটি ট্রাক জব্দ করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি।

আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত দেশগুলো খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর। ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোনো ফল বাজারজাত করার আগে তার উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা করে। জাপানে কৃষকের খামার থেকেই ট্রেসিং সিস্টেম চালু রয়েছে। ফলে কোনো খাদ্যে সমস্যা ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে উৎস শনাক্ত করা যায়।

বাংলাদেশেও আধুনিক ল্যাব, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং কৃষকভিত্তিক নিবন্ধন চালু করা জরুরি।

তবে শুধু রাষ্ট্রকে দায়ী করলেই হবে না। সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা রাতারাতি গড়ে ওঠেনি; তাদের তৈরি করেছে ভোক্তার অন্ধ চাহিদা এবং দ্রুত লাভের সংস্কৃতি। মৌসুমের আগেই আম চাই, লিচু চাই—এই মনস্তত্ত্বও সিন্ডিকেটকে উৎসাহিত করে। মানুষকে বুঝতে হবে, প্রকৃতির নিজস্ব সময় আছে। গাছে স্বাভাবিকভাবে পাকা ফলের স্বাদ ও নিরাপত্তার সঙ্গে কেমিক্যাল মেশানো ফলের কোনো তুলনা হয় না।

কৃষকদের দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের চাপে অপরিপক্ব ফল বিক্রি করেন। তারা ন্যায্যমূল্য পান না। ফলে লাভের বড় অংশ চলে যায় আড়তদার ও সিন্ডিকেটের হাতে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সংরক্ষণ সুবিধা এবং সরাসরি বাজারে বিক্রির সুযোগ তৈরি করা গেলে এই নির্ভরতা কমবে।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়াতে হবে। মানুষকে শেখাতে হবে কীভাবে কেমিক্যালযুক্ত ফল চিনতে হয়। ফল খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধোয়া, কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখা এবং বেকিং সোডা ব্যবহার করার মতো সতর্কতাও জানাতে হবে। তবে এটিও মনে রাখতে হবে—এসব কেবল ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে, পুরোপুরি দূর করতে পারে না।

আজ বাংলাদেশের মানুষ নিরাপদ খাবার চায়। তারা চায় সন্তানের হাতে বিষমাখা ফল নয়, প্রকৃতির স্বাভাবিক উপহার তুলে দিতে। তারা চায় বাজারে গেলে অন্তত এই নিশ্চয়তা থাকুক যে খাবার তাদের অসুস্থ করবে না। একটি সভ্য রাষ্ট্রে এটি খুব বড় দাবি নয়; বরং নাগরিকের ন্যায্য অধিকার।

বিষমুক্ত ফল ও ভেজালমুক্ত খাবারের প্রশ্নটি কেবল স্বাস্থ্যগত নয়; বরং এটি নৈতিকতা, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্নও। কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার মানুষের সুস্থতার ওপর। অসুস্থ জনগোষ্ঠী নিয়ে কখনো উন্নত রাষ্ট্র গড়ে ওঠে না। তাই এখনই সময় কঠোর অবস্থান নেওয়ার। কেমিক্যাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান, দ্রুত বিচার, কৃষকবান্ধব নীতি, আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার এবং জনসচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট থেকে মুক্তি মিলবে না। 

সুতরাং আমরা আর চকচকে বিষ চাই না। তারা চাই নিরাপদ খাদ্য, সুস্থ জীবন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিষমুক্ত বাংলাদেশ। 

খুঁজুন